Arjun Reddy Full Movie & Bangla Review

Arjun Reddy এমন এক তরুণের সিনেমা, যে ছাত্র হিসেবে যেমন তুখোড়, তেমনি দারুণ খেলোয়াড়। সবকিছুতে ভালো, শুধু একটাই সমস্যা – তার মাঝে বিনয়ের বড় অভাব। খেলার মাঠে পিটাপিটি, রক্তগরম তারুন্য যা ছাত্রজীবনে চিরচেনা একটা ব্যাপার। সেই ছেলের মন এসে যায় প্রথম বর্ষের এক মেয়ের উপর। মন এসেছে তো এসেছে, এখন তাকে নিজের সম্পত্তি মনে করা শুরু করে সে। কেউ চোখ তুলে তাকালেই খবর আছে।
 
ছাত্রজীবনে এধরণের টক্সিক প্রেম শেষ দেখেছিলাম সালমান খানের Tere Naam মুভিতে। সেখানে প্রেমিকাকে পাওয়ার আগে প্রেম পাওয়ার ব্যাপার ছিলো। এখানে প্রথমটা পেলেও দ্বিতীয়টা পায় কিনা সেটাই প্রশ্ন।
অর্জুন আর প্রীতি চরিত্রে দুজন প্রায় নতুন মুখকে নিয়েই প্রথম সিনেমা বানিয়ে পরিচালক সন্দ্বীপ রেড্ডি চমকে দেন তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিকে। শেষ এরকম ধুম মাচানে ওয়ালা সাউথের যেই ফিল্মটি দেখেছি তা ছিলো Sairat। সেই সফল ফিল্মটি বলিউডে রিমেক হয়েছিলো যা মোটেই ভালো হয়নি, কিন্তু অর্জুন রেড্ডিকে নিয়ে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া শহীদ কাপুরের Kabir Singh এখন বলিউডের বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে। অনেকে বলছেন – এটাও ভালো হওয়ার মূল কারণ অরিজিনালটার হুবহু রিমেক আর পরিচালক একই থাকা।
তবে শহীদের কবির সিং নিয়ে উঠেছে Misogyny আর Toxic Masculinity এর অভিযোগ, আমি কবীর সিং দেখিনি। তবে যা বুঝলাম ওখানে সম্ভবত violence বেশি দেখানো হয়েছে। এ কারণেই আমি সবসময় সাউথের কোনও ফিল্ম বলিউডে রিমেক হলে সাউথেরটা দেখার চেষ্টা করি, কারণ ওরা গল্পটা এতো সহজসরলভাবে দেখায়, যা একেবারে জীবনঘনিষ্ঠ মনে হয়। অর্জুন রেড্ডিতে এক দল মেয়ের মাঝে নায়িকাকে সনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব, কারণ এখানে নায়িকা বলে আলাদা গ্ল্যামার দেয়া হয়নি। Link
অর্জুন চরিত্রে ভিজয়ের শারীরিক উপস্থাপনা আর ম্যানারিজম এতো আকর্ষণীয় যা দেখে বোদ্ধারা ওকে তরুণ অমিতাভ বচ্চনের সাথেও তুলনা করেছেন। আমি জানি না, ওর চরিত্র মাথায় নিয়ে শহীদকে রিমেকে আমি এতোটা গ্রহণ করতে পারবো কিনা, একদিকে শহীদের সিমিলার চরিত্র (নেতিবাচক, এক্সেন্ট্রিক) আগে কামিনে, উড়তা পাঞ্জাব, হায়দারে দেখেছি, আর মাথায় সুপারস্টার শহীদ ঘুরবেই।
এবার আসি নায়িকা শালিনী প্রসঙ্গে। প্রথম সিনেমায় আসলেই নতুনই লেগেছে তাকে। সে তুলনায় বলিউডের কাইরি না কে যেন, বেশ গর্জিয়াস মনে হলো, এটাও কবীর সিং কে আমার কাছে নামিয়ে দেবে কারণ এটার তুলনায় বাস্তবতা কম লাগবে সেটায়। তাই আমি এখনি সবাইকে বলবো-

Kabir Singh দেখেন না দেখেন, অর্জুন রেড্ডি দেখেন।

সিনেমার নামের মতো ৩ ঘন্টার প্রায় পুরোটা সময় আমরা এযুগের দেবদাস অর্জুনকেই দেখেছি। তার পরে বরং তার দুই বন্ধু চরিত্রের স্ক্রিনটাইম বেশি লেগেছে নায়িকার চেয়ে। নায়িকা প্রীতির সংলাপ খুঁজে পেতেই অনেক সময় লেগে যায়। তবু দুটা বিশেষ দৃশ্যেই তিনি তার অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছেন। আর বেশ কিছু গানে মন্টাজে অর্জুন প্রীতির রসায়ন এতো দুর্দান্ত, যে ওদের মধ্যকার বেশ কিছু চুমুর দৃশ্যও অনেস্টলি বিন্দুমাত্র সেক্সুয়াল লাগেনি, এতো ন্যাচারাল অভিনয় সম্ভব হয়েছে দুর্দান্ত চিত্রনাট্য আর পরিচালনার কারণেই।
অনেকেই সন্দ্বীপ রেড্ডিকে সাউথের অনুরাগ কাশ্যপও বলছেন। কারণ অনুরাগের মতোই এখানে চরিত্রগুলো গ্রে আর বাস্তবিক। গল্পবলিয়েতেও একইধরনের ঝাঁঝ আর আধুনিকতার পরিচয় পাই। গানেও সেটা অবিচল। এতোটাই সিচুয়েশানাল আর চমৎকার লিরিক্স যা গল্পটাকেই যেন এগিয়ে নিয়ে যায়।
৩ ঘণ্টার সিনেমাটি বিন্দুমাত্র ঝুলেছে কিনা মনে পড়ে না, শুধু অর্জুন আর তার প্রেমিক হৃদয়ের টানাপোড়েন অনুভব করেছি সবসময়।
শেষটাও অসাধারণ এবং অপ্রত্যাশিত। প্রেমের সিনেমা এতো দেখেছি, এখনো একইধরনের গল্পে আবেগাপ্লুত হওয়ার কিছু নেই। তবু পারলাম না। চোখে পানি চলে আসলো।
এসবকিছুর পরেও অর্জুন রেড্ডিকে আমি সামাজিক বা পারিবারিক কোন ফিল্ম বলবো না, এখানে লুকাছুপি বা সিনেমার খাতিরে ভদ্রচিত করে উপস্থাপন করা হয়নি কিছু। তাই সিনেমাটি সেন্সরেও “A” সার্টিফিকেট পায়। সেক্স, ড্রাগস, স্মোকিং সব থাকলেও অর্জুন চরিত্রটা এতোটাই তীব্রভাবে সামনে এসেছে, যা সহজেই যে কাউকে অনুপ্রাণিত করতে পারে – আর এটাই সিনেমাটার সামাজিক আবেদন কমিয়ে দিয়েছে। আজকালকার যুগে এধরণের পুরুষত্ব দেখিয়ে বেড়ানো কোন কাজের কথা না, এভাবে মেয়ে পাওয়াও যায় না বলে এই সিনেমায় দেখানো অনেকগুলো গল্পই বাস্তব জীবনে কতোটা কার্যকর হবে, সন্দেহ আছে।
সেকারণেই ফিল্মটা দুর্দান্ত হিসেবে recommend করার পাশাপাশি সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ

Don’t try an Arjun Reddy in your life or with your girl.

গ্রেডিংঃ A

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *